বেড়িবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের দলীয় পদ স্থগিতের পরদিন তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাছ কাটার মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় জেলা শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন।এর আগে মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক মিঠামইন থানায় মামলা করেন। প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সালে বাঁধ তৈরি করা হয়। সেই সময় গাছগুলো রোপণ করা হয়। গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানার পর সমিল থেকে সেগুলো জব্দ করা হয়।

বেড়িবাঁধ এলাকায় রোপণ করা ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে জাহাঙ্গীরের দলীয় সব ধরনের পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে করা হয়, “জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ব্যক্তিগত স্বার্থে কেটে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। নিজ গাড়ি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথ সুগম করার লক্ষে তিনি এ ধরনের অন্যায় ও নিন্দনীয় কাজ করেছেন; যা দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

“এ ধরনের গর্হিত কাজের জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে সমস্যা হওয়ায় চব্বিশের ৫ অগাস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু করেন তিনি। সবশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গুঁড়ি কেটে ফেলা হয়। পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।

মিঠামইন উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় বলেন, বেড়িবাঁধের গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় ‘খোয়াব’ নামে একটি এনজিও রোপণ করেছিল।