২০২৪ সালে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কানাডার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন বাতিলের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC)–এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮০ শতাংশ ভিসা আবেদন বাতিল করেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন এশিয়া ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরাও।

কানাডার সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে দেশটিতে নতুন ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৮৮ লাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন সংকট, অবকাঠামোগত চাপ এবং অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণ।

কানাডা সরকার এখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত স্টাডি প্ল্যান, উন্নত ভাষা পরীক্ষার ফলাফল এবং শক্তিশালী আর্থিক নথিপত্র জমা দেওয়ার দাবি করছে। পাশাপাশি স্টুডেন্ট ডিরেক্ট স্ট্রিম (SDS) প্রক্রিয়াও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা আগে দ্রুত ভিসা অনুমোদনের একটি পথ ছিল।

শুধু তাই নয়, কাজের সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। কিছু পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট কর্মসংস্থান বন্ধ হয়েছে এবং কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ভাষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড আরও কঠিন করা হয়েছে।

২০২৫ সালে কানাডা সরকার সর্বমোট ৪.৩৭ লাখ স্টাডি পারমিট ইস্যু করবে বলে জানিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। এর মধ্যে: আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী: ২.৪৩ লাখ, পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী: ৭৩ হাজার, স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী: ১.২০ লাখ।


বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য জমা দেওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল হচ্ছে। অন্যদিকে, বহু পরিবার আবেদন প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—ভিসা ফি, ভাষা পরীক্ষা, কাগজপত্র তৈরির খরচ মিলিয়ে অনেকেই লাখ লাখ রুপি ব্যয় করেও হতাশ হয়েছেন।

এই পরিস্থিতি কেবল শিক্ষার্থীদের স্বপ্নেই আঘাত করছে না, বরং আর্থিকভাবে নির্ভরশীল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে বিদেশি টিউশন ফি নির্ভর ছোট কলেজগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে অথবা বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হতে বাধ্য হতে পারে।