আবাসন সংকট নিরসনসহ চার দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৬ মে) সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা কাকরাইল মসজিদের উত্তর-পূর্ব পাশে জড়ো হতে শুরু করেন। জুমার নামাজের পর থেকে তারা গণঅনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন।
\r\nআন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের কোনো প্রতিশ্রুতি না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। উল্টো পুলিশের লাঠিচার্জে শিক্ষার্থীরা আহত হওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
\r\nফিন্যান্স বিভাগের এক আন্দোলনরত শিক্ষার্থী বলেন, \"আমরা তিন দিন ধরে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু সরকার এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং আমাদের ওপর পুলিশি নির্যাতন হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, দাবি মানা না হলে আন্দোলন চলবে। জুমার পর গণঅনশন শুরু করব।\"
\r\nশিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. বেলাল উদ্দীন বলেন, \"জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আমরা বার্ষিক ৩০৬ কোটি টাকার বাজেট চেয়েছি। এটা খুব বেশি কিছু নয়। রাষ্ট্র যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়ন করে, তাহলে তা দেশেরই কল্যাণে কাজে আসবে।\"
\r\nতিনি আরও বলেন, \"একজন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র তিন হাজার টাকা বৃত্তি চাওয়া হয়েছে। এই টাকা সরাসরি উপকৃত করবে দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের সন্তানদের। এটা কোনো অপচয় নয়।\"
\r\nআন্দোলনের সূচনা ঘটে গত বুধবার (১৪ মে), যখন শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কাকরাইল মোড়ে গেলে পুলিশের লাঠিচার্জে বাধা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দিকে বোতল ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
\r\nশুক্রবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা দলে দলে কাকরাইল মোড়ে জড়ো হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে গতকাল (১৫ মে) বিকেলে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় 'শাটডাউন' ঘোষণা করা হয়।
\r\nআলোচনার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন এবং শিক্ষা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
\r\nবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইসউদ্দীন জানান, “আমাদের দাবি আদায়ে সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে জুমার নামাজের পর থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে গণঅনশনে বসবেন।”





