গণঅধিকার পরিষদের যশোর জেলা কমিটিকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরহাদ রহমান মুন্না পদত্যাগ করেছেন। আজ রোববার (১৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে মুন্না লেখেন, “আমি আমার নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের বাইরে কোনো অনিয়ম গ্রহণ বা সমর্থন করতে পারি না। আজ থেকে সংগঠনের সঙ্গে আমার কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকবে না। গণঅধিকার পরিষদের কোনো দায়-দায়িত্বও আমার ওপর বর্তাবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, দলটি এখন সুবিধাবাদীদের হাতে চলে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “দলের সংকটকালে আমরা রাজপথে ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে কিছু সুবিধাবাদী নেতা আওয়ামী দোসরদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ সুবিধা নিয়ে দলে জায়গা করে দিচ্ছেন। দেশ ও জাতির সঙ্গে এমন বিশ্বাসঘাতকতা আমি করতে পারি না।”
শেখ ফরহাদ রহমান আরও দাবি করেন, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল এবং যশোর জেলা সভাপতি আশিকুর রহমান যৌথভাবে শ্রমিক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি গাজী মো. আবুল কালামকে অর্থের বিনিময়ে যশোর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি এই নিয়োগকে দলের নীতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আশিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জেলা কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদিত হয়। এখানে আর্থিক লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। গাজী মো. আবুল কালামের বিষয়ে আমার তেমন জানা নেই।” তিনি দাবি করেন, ফরহাদ রহমান “আবেগপ্রবণ” এবং এর আগেও কয়েকবার পদত্যাগ করেছেন।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেন দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল। তিনি বলেন, “গণঅধিকার পরিষদ একটি গণমানুষের দল। এটি নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় চলে। গাজী মো. আবুল কালাম আওয়ামী লীগের কেউ নন, বরং তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।”
প্রসঙ্গত, আগামী ২২ আগস্ট যশোরের মুন্সি মেহেরুল্লাহ ময়দানে গণঅধিকার পরিষদের একটি গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নুর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর আগমুহূর্তে সংগঠনের নেতার এমন পদত্যাগ ও অভিযোগ তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।





