নতুন গবেষণায় কফি মাইগ্রেন কমাতে সহায়ক বলে দাবি করা হলেও চিকিৎসকদের বড় অংশ বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ এতটা কফি পান করেন না। তাই গবেষণার ফল সবার জন্য প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কফি উপকারী হলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের সমস্যা, গ্যাসট্রিক ও হার্ট রেটে প্রভাব ফেলতে পারে।

মাইগ্রেন-অরা থাকলে মাথা ঝিমঝিম, চোখে ব্ল্যাক-আউট, আলো-গন্ধে বিরক্তি দেখা যায়। নতুন গবেষণা বলছে, এই গ্রুপের রোগীরাই কফির ক্যাফেইন থেকে সবচেয়ে বেশি উপকার পান। গবেষকদের মতে, কফি রক্তবাহিকার অস্বাভাবিক ফুলে ওঠা কমিয়ে ব্যথা হালকা করে।

চীনের নানচাং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ বছরের সমীক্ষায় দেখা গেছে, আলঝাইমার বা পার্কিনসনের মতো স্নায়ুরোগে বড় কোনো প্রভাব না থাকলেও মাইগ্রেনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে নিয়মিত কফি খাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে। গবেষকরা বলছেন, ক্যাফেইন ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে কাজ করে।

ওষুধে প্যারাসিটামলের সঙ্গে ক্যাফেইন যুক্ত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ক্যাফেইন রক্তবাহিকার অস্বাভাবিক প্রসারণ কমিয়ে ব্যথার তীব্রতা কমিয়ে দেয়। এজন্য অনেক ব্যথা নাশক ওষুধেও ক্যাফেইন কম্বিনেশন ব্যবহার করা হয়।

গবেষণায় প্রতিদিন ২০০ গ্রাম কফি খাওয়ার কথা বলা হলেও দক্ষিণ এশীয়দের খাদ্যাভ্যাসে এতটা কফি পান করা অত্যন্ত বিরল। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ উচ্চমাত্রায় কফি গ্রহণ করলে অনিদ্রা, গ্যাস্ট্রিক বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

গবেষকরা বলছেন, এক মগ কফিতে থাকে প্রায় ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন, যেখানে চায়ে থাকে প্রায় ৫০ মিলিগ্রাম। তাই চা পান করে মাইগ্রেন কমবে এমন ধারণা ভুল। চায়ের ক্যাফেইন মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে কফির মতো কার্যকর নয়।

চিকিৎসকদের মতে, খালি পেটে কফি না খাওয়া ভালো। সকাল বা দুপুরে কফি নিলে কার্যকারিতা বেশি থাকে। রাতে কফি খেলে মাইগ্রেন কমলেও ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে। ধীরে ধীরে কফির পরিমাণ বাড়াতে বলা হয়, যেন শরীর তা সহ্য করতে পারে।