ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডকে “ভয়াবহ ঘটনা” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশে হামলা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে ‘স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে দেশে যে ধরনের ভিড় বা মব অ্যাটাকের ঘটনা ঘটছে, তা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত। এছাড়া, কিছু রাজনৈতিক পক্ষের সহিংসতা—বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি—এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী, শিল্পী ও গায়ক-গায়িকারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি নির্বাচনী প্রার্থী ও যুব নেতা শরীফ ওসমান হাদিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসেন, যা তৎকালীন কর্তৃত্ববাদী সরকারের উৎখাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এইচআরডব্লিউর মতে, দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের পর বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা নাগরিকদের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে এবং নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, যুব নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল একটি ভয়াবহ ঘটনা।





