সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) প্রণীত ‘জাতীয় সনদ’ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের হাতে এই সনদ তুলে দেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ জাতীয় সনদ তৈরির উদ্যোগের জন্য সুজনকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, “এই সনদ জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর রূপরেখা প্রণয়নে সহায়ক হবে।”
সুজন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রসারে কাজ করে চলা এ সংগঠনটি ২০১৩ সালেই একটি খসড়া জাতীয় সনদ প্রণয়ন করে রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের প্রয়াস শুরু করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দেশের আটটি বিভাগে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সংলাপ আয়োজন করা হয়।
চলতি বছরের মে-জুন মাসে জাতীয় সনদের বিষয়ে দেশজুড়ে ১৫টি সংলাপ আয়োজনের পাশাপাশি এক বিস্তৃত জনমত যাচাই জরিপ পরিচালনা করা হয়, যাতে ১ হাজার ৩৭৩ জন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। অনলাইন জরিপে অংশগ্রহণ করেন আরও ছয় হাজারের বেশি নারী-পুরুষ।
জরিপে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—জাতীয় সংসদের পাশাপাশি একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠনের পক্ষে ৭১ শতাংশ মত, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধান—একই ব্যক্তি না থাকার পক্ষে ৮৭ শতাংশ মত, সৎ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি দিয়ে গঠিত ‘জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল’ (এনসিসি) গঠন করে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের পক্ষে ৮০ শতাংশ মত
সুজন জানিয়েছে, আন্দোলনপরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতেই তারা সনদটি চূড়ান্ত করেছে এবং তা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এই সনদ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও উপস্থাপন করা হবে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, শিগগিরই এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় সনদের বিস্তারিত এবং জরিপের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।





