ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শুরুর আগেই প্যারিস সরকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের এই বার্ষিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহে।
ফরাসি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক কূটনৈতিক সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে, প্যারিস এই সিদ্ধান্তকে জাতিসংঘের মঞ্চে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
এর আগে, গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এসব দেশের সঙ্গে ফ্রান্সের যুক্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে ইউরোপীয় ভূমিকার নতুন মোড় তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে ‘গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চাপ’ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর মানবিক সংকট পশ্চিমা বিশ্বে জনমতকে দৃশ্যমানভাবে পরিবর্তন করেছে। ফলে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
তবে এই স্বীকৃতি বিশ্ব মঞ্চে নতুন ধরনের বিভাজনও তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও তাদের পুরনো অবস্থানেই অনড়—তারা শুধুমাত্র ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে সমর্থন করে। তাদের দৃষ্টিতে একতরফা স্বীকৃতি এই প্রক্রিয়ায় সহায়ক নয়।
অন্যদিকে রাশিয়া, চীন এবং বেশিরভাগ আরব দেশ বহু আগেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক এবং মেরুকরণ দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরেও মতপার্থক্য স্পষ্ট। জার্মানি ও ইতালির মতো দেশগুলো এখনো এই প্রশ্নে সতর্কতা বজায় রেখেছে। তবে আরও কিছু ইউরোপীয় দেশের যোগদানের সম্ভাবনা থাকায়, পশ্চিমা জোটের মধ্যে রাজনৈতিক ফাটল তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই ফিলিস্তিনি ইস্যু আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আজ পর্যন্ত জাতিসংঘের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলেও, পশ্চিমা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এতদিন তা এড়িয়ে চলেছে। এবার ফ্রান্সের পদক্ষেপকে তাই একটি ‘ঐতিহাসিক পরিবর্তন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন





