জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মসূচিতে দাপ্তরিক কাজে বাধা দেওয়ার কারণে আরও চার কর কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) এক আদেশে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।


বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু; খুলনার মোংলার কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আলা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান; চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির যুগ্ম কমিশনার সানোয়ারুল কবির; এবং খুলনার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপকমিশনার সাইদুল ইসলাম।


গত দেড় মাসে এনবিআরের আন্দোলনের কারণে এনবিআরের সদস্য থেকে প্রহরী পদবিসহ ৩১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


আইআরডি সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান চার কর্মকর্তার বরখাস্তের পৃথক আদেশে উল্লেখ করেছেন, ১২ মে সরকারি অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংশোধন করা হলেও কর্মচারীরা এনবিআরের বিভিন্ন দপ্তরে দাপ্তরিক কাজ বাধাগ্রস্ত করেছেন। আন্দোলন চলাকালীন তারা কাজে অনুপস্থিত ছিলেন এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন। তাই সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা-৩৯(১) অনুযায়ী চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালে তাঁরা বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।


এনবিআর সূত্র জানায়, গত মাসে আন্দোলনে বরখাস্তকৃতরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং কেউ কেউ নেতৃত্বও দিয়েছেন। আন্দোলন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সংগঠিত হয়েছিল।


মে ও জুনে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। ২৮ ও ২৯ জুন সারা দেশে কাজ বন্ধ করে দেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার হওয়ার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুরু হয়। এর আগে তিন সদস্য ও এক কমিশনার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তৎকালীন কমিশনারকে কাজ বন্ধ রাখার দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুদক এনবিআরের ২ সদস্যসহ ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।


১২ মে জারি হওয়া অধ্যাদেশে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠন করা হয়। এ সময় থেকে দেড় মাস ধরে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসেন।