আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে পুনরায় স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে—এক দিন আগে নয়, পরেও নয়।


বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মরিস ট্যানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে ড. ইউনূস জানান, নির্বাচন ঘিরে ভুয়া খবর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন এবং ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অটল রয়েছে।


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের সমর্থকরা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং এআই-জেনারেটেড ভুয়া ভিডিও ও তথ্য শনাক্ত করতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে।


এদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন ড. ইউনূস। এ বিষয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন তিনি। আলোচনায় নির্বাচন ঘিরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সূত্র থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।


জবাবে ভলকার তুর্ক জানান, বিষয়টি জাতিসংঘের নজরে রয়েছে এবং ভুয়া তথ্যের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা বাংলাদেশের পাশে থাকবে।


ফোনালাপে দুই পক্ষ আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। ভলকার তুর্ক গুমের ঘটনার তদন্ত জোরদারে একটি বাস্তব অর্থে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।


জবাবে ড. ইউনূস জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এ সময় ভলকার তুর্ক প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।