তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান পুনরুজ্জীবিত করার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের এ রায়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ আরও সুগম হলো।


বৃহস্পতিবার সকালে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বদিউল আলম মজুমদার এ মামলার অন্যতম আপিলকারীও ছিলেন।


১৪ বছর আগে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা যে রায় দেওয়া হয়েছিল, সেটি আজ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। সংশ্লিষ্ট আপিল মঞ্জুর ও রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন নিষ্পত্তি করে আদালত রায়ে ঘোষণা করেন যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধানাবলি পুনরুজ্জীবিত হলো এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োগযোগ্য থাকবে।


বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের দেওয়া রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা “নির্বাসনে” চলে গিয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে পরপর তিনটি নির্বাচন হয়েছে বিতর্কিত। আজকের রায় সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুলে দিল।


তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের পর আদালত রিভিউ গ্রহণ করেছেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর থেকেই তিনি বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লেখালেখি করেছেন এবং পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পর্কেও আপত্তি জানিয়েছিলেন।


আপিলকারী চার বিশিষ্ট ব্যক্তির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, আজকের রায়ে আদালত স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে খায়রুল হকের নেতৃত্বে দেওয়া রায়টি পুরোপুরি বাতিল হয়েছে। ফলে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আবার সংবিধানে ফিরে এসেছে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এ রায় অত্যন্ত ঐতিহাসিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


শরীফ ভূঁইয়া আরও বলেন, “খায়রুল হকের নেতৃত্বে দেওয়া রায় ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। ওই রায়ের মাধ্যমে দেশে প্রায় ১৫ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল। রায়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছিল।”