বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি। তিনি বলেন, যারা বিদেশি শক্তির দালালি করেছে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, আর যারা এখনো বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি করছে জনগণ তাদের আর সুযোগ দেবে না।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একমাত্র পথ একটি শক্তিশালী ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। যারা চোখ হারিয়েছেন বা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের প্রত্যাশা যেমন কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, তেমনি দেশের প্রতিটি মানুষের প্রত্যাশাও একই।

তিনি বলেন, এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে আর কখনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে না। অতীতে যারা ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল—শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ—জনগণ তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি মাথাচাড়া দিলে জনগণ আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণ এখন রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরে পেয়েছে এবং অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে প্রতিটি মানুষ নিজেকে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক বলে মনে করতে পারে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে স্বাধীন ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণ একটি কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। এই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছে এবং ত্যাগ স্বীকার করেছে।

বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের উন্নয়ন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র ও প্রগতির জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। ভবিষ্যতেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি একটি সমৃদ্ধ, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি। সভায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরে তিনি বলেন, সব নীতি ও সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের স্বার্থই সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাবে।