মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের ফারিশ জেলায় স্বল্পক্ষমতা সম্পন্ন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই ইউনিটে স্থাপিত হবে রুশ মডেলের আরআইটিএম-২০০ রিয়্যাক্টর। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পটির প্রথম কংক্রিট ঢালাই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।


ফারিশ জেলার এই প্রকল্পটিকে বিশ্বের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে একই সাইটে উচ্চক্ষমতা ও স্বল্পক্ষমতা—দুই ধরনের পারমাণবিক ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। বৈশ্বিক পরমাণু শক্তি খাতে এটি একটি নতুন প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের উদাহরণ।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ এবং উজবেকিস্তানের পরমাণু সংস্থা উজাটম-এর পরিচালক আজিম আখমেদ খাদজায়েভ।


আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, “বিদেশে স্বল্পক্ষমতার পরমাণু বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণে স্থানীয় সম্পদ ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনেক উজবেক প্রতিষ্ঠান সাবকন্ট্রাক্টর হিসেবে প্রকল্পের কাজে অংশ নেবে।” তিনি আরও জানান, ইউনিটটির আয়ুষ্কাল অন্তত ৬০ বছর এবং পুরো সময়জুড়ে রসাটম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা দেবে।


বর্তমানে সাইটে প্রকৌশল জরিপ, নকশা প্রণয়ন ও ভিত্তি স্থাপনের কাজ চলছে। বছরের শেষ নাগাদ নকশা সংক্রান্ত নথি উজবেক কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করে প্রায় ১৫ লাখ ঘনফুট মাটি সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।


এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মস্কোয় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাটমিক উইক ২০২৫’ চলাকালে উজবেকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে একটি নতুন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় ফারিশ প্রকল্পে দুটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ভিভিইআর-১০০০ রিয়্যাক্টর এবং দুটি স্বল্পক্ষমতার জওঞগ-২০০ ইউনিট নির্মাণ করা হবে। উভয় দেশের মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ সম্পর্কিত চুক্তির মূল কাঠামোও অনুমোদিত হয়েছে।