নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সরকারি বাসায় থাকছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। এ তথ্য সকালে নিজেই নিশ্চিত করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।


\r\n

তিনি জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারের নির্দেশে সরকারি বাসায় অবস্থান করছি। এছাড়া, দুই মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ডে বাসায় থাকার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই।


\r\n

গত ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি। প্রধান উপদেষ্টা তা গ্রহণ করেন এবং তখন তার প্রেস উইং জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই পদত্যাগ কার্যকর হবে। পরের দিন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগপত্র কার্যকর হয়।

\r\n

আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। মাহফুজ আলম গত বছরের ২৮ আগস্ট নিয়োগ পেয়ে প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন, পরে ফেব্রুয়ারিতে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। শেষ পর্যন্ত আসিফ মাহমুদ ১৫ মাস এবং মাহফুজ আলম ১৩ মাস দায়িত্ব পালন করেন।


\r\n

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এটি মূলত আসিফ মাহমুদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় এবং সরকারের পতন দ্রুততর করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তার ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।


\r\n

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময়, জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রথম অংশগ্রহণে মাহফুজ আলমকে সফরসঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সেখানে মাহফুজকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন, যা দেশে ও বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।