উগান্ডায় গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি এই নির্বাচনের মাধ্যমে তার চার দশকের শাসন আরও একবার বাড়াতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।


নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয় এবং বিরোধীদের ওপর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমনপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ভোটের পর বিরোধী দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ববি ওয়াইন জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী তাকে গৃহবন্দী করে রেখেছে। তার দল এক এক্স পোস্টে জানিয়েছে, সামরিক হেলিকপ্টারে তাকে জোরপূর্বক তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।


উগান্ডা সরকার এই অভিযোগে এখনও মন্তব্য করেনি। তবে সেনাবাহিনী শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে অভিযোগটি অস্বীকার করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ক্রিস ম্যাগেজি বলেন, ‘ববি ওয়াইনের তথাকথিত গ্রেফতারের খবর ভিত্তিহীন। এগুলো তার সমর্থকদের উসকানি দেওয়ার জন্য প্রচার করা হয়েছে।’


উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ববি ওয়াইন। ভোটের পর ওয়াইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, দেশজুড়ে ব্যালট বাক্সে জাল ভোট ভরা হচ্ছে এবং জনগণকে ‘অপরাধী শাসন প্রত্যাখ্যান করতে’ আহ্বান জানিয়েছেন।


উগান্ডা নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ৮১ শতাংশ ভোট গণনা শেষে মুসেভেনি ৭৩.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, আর ওয়াইনের প্রাপ্ত ভোট ২২.৭ শতাংশ। ৮১ বছর বয়সী মুসেভেনি প্রায় চার দশক ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন এবং নির্বাচনের আগে জানিয়েছিলেন, এবার তিনি ৮০ শতাংশ ভোট পাওয়ার আশা করছেন।


ইন্টারনেট বন্ধ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার কারণে ওয়াইনের অবস্থান নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তার বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন।