পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চাঞ্চল্যকর দাদি–নাতনি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


মামলা সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী থানার ভবানীপুর গ্রামে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার সেতু (১৫)-কে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেতু কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার পর ভিকটিম সেতুর লাশ আল্লাদী মৌজার একটি গমক্ষেতে উদ্ধার করা হয় এবং সুফিয়া খাতুনের লাশ বাড়ির গেটের সামনে পাওয়া যায়।


এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মামলা নং-০১, তারিখ ০১/০৩/২০২৬ ইং, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭/৯(৩)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।



পাবনার পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রেজিনূর রহমানের তত্ত্বাবধানে ঈশ্বরদী সার্কেল, ওসি ডিবি এবং অফিসার ইনচার্জ ঈশ্বরদী থানার নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) বেনু রায়, পিপিএম ও এসআই (নিঃ) অসিত কুমার বসাক তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেন।


পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ শরিফুল ইসলাম (৩০), পিতা-মোঃ মোফাজ্জল, সাং-কালিকাপুর, থানা-ঈশ্বরদী, জেলা-পাবনা। তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের খাটি, একটি কাঠের বাটাম ও আসামির ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।


গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।