ফ্রান্স মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারকে তলব করেছে, কারণ তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, তিনি কূটনৈতিক সীমা অতিক্রম করেছেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে কুশনার ফ্রান্সের নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ইসরাইলের বিরোধিতা ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ চরমপন্থীদের উৎসাহিত করছে। তিনি লিখেছেন, “ইহুদি-বিদ্বেষ হল ইহুদি-বিদ্বেষ—সহজ এবং সরল। ফ্রান্সের নীতিগুলো দেশে ইহুদিদের জীবনকে বিপন্ন করেছে।”
কুশনারের মন্তব্য ফরাসি কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, সরকার ইহুদি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, কুশনারের মন্তব্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের নীতি লঙ্ঘন করেছে। মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, “এই ধরনের অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের মানদণ্ডের সঙ্গে খাপ খায় না।”
ফরাসি কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ফ্রান্সের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং এটি ইহুদি নাগরিকদের নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করেনি।
বিতর্কের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কুশনারের পাশে দাঁড়িয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, কুশনার “ফ্রান্সে আমাদের জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নিতে দুর্দান্ত কাজ করছেন।”
এই বির্তক শুরু হয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে সমর্থন করার মাধ্যমে ইহুদি-বিদ্বেষকে উৎসাহিত করার অভিযোগ করার কয়েক দিন পর। যদিও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এসব দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান অনুসরণের সময় ইহুদি নাগরিকদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।





