ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে এস আলম গ্রুপের দখলদারিত্বের সময় ব্যাপক অনিয়মে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকে জনবল ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার কর্মী ছিলেন ৭৭৬ জন। তবে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ব্যাংকের জনবল বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২২ হাজারে। এর মধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি কর্মী ছিলেন শুধু চট্টগ্রাম বিভাগের, যার বড় অংশ এস আলমের নিজ উপজেলা পটিয়ার।

অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়োগ হয় নিয়ম ভেঙে, জাল সনদ ও বক্সের বায়োডাটার মাধ্যমে। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই, পরীক্ষা ছাড়াই হাজার হাজার লোককে চাকরি দেওয়া হয়। এতে ৬৩ জেলার চাকরিপ্রত্যাশীরা বঞ্চিত হন এবং ব্যাংকের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। ফলে গ্রাহকসেবার মানও নেমে যায়।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের ওপর এস আলম গ্রুপের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ভেঙে পড়ে। এরপর অবৈধ নিয়োগ পাওয়া পাঁচ হাজার ৩৮৫ জন কর্মীর যোগ্যতা যাচাইয়ে উদ্যোগ নেয় ব্যাংক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) মাধ্যমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

তবে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র ৪১৪ জন। ধরা পড়ার ভয়ে অংশ না নেওয়া প্রায় ২০০ জনকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করায় আরও চার হাজার ৯৭১ জনকে করা হয়েছে ওএসডি।

২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপ। তখন থেকেই ব্যাংকটি অনেকের কাছে “পটিয়া ব্যাংক” নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র: আমার দেশ