মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জন্য ইরানকে দায়ী করে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জি-৭ জোট। কানাডায় অনুষ্ঠিত ৫১তম শীর্ষ সম্মেলন শেষে সোমবার রাতে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের নেতারা ইরানকে ‘অস্থিতিশীলতার উৎস’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার এখনই সময়। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, “ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। ইরান সন্ত্রাসবাদে সহায়তা করছে, যা এই অঞ্চলে সহিংসতার বিস্তার ঘটাচ্ছে।”
ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে জি-৭ নেতারা এই বিবৃতি দেন। গত শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে টানা হামলা চলছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই জি-৭ সম্মেলন থেকে সময়ের আগেই দেশে ফিরে যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর আগেভাগে ফিরে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না হলেও তিনি জানান, এটা কোনো যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের কারণে নয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমার ফেরাটা এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কারণে।”
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ অবশ্য ট্রাম্পের আগাম প্রস্থানের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুদ্ধবিরতির একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ফ্রান্স এমন উদ্যোগকে সমর্থন করবে।”
তবে ট্রাম্প পরে মাখোঁর বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে বলেন, “মাখোঁ জানেন না আমি কেন ফিরে যাচ্ছি। তবে এটা যুদ্ধবিরতির কারণে নয়।”
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন কিছুটা আড়ালে পড়ে যায়।
সম্মেলনের শেষ ঘোষণায় ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে বলা হয়, “এই অঞ্চলে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে হবে।” জোটের নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলন না শেষ করেই ফিরে গেলেও ট্রাম্প যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা, জি-৭ বিবৃতি,





