বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন যে গেজেট প্রকাশ করেছে, সেটি স্থগিত চেয়ে করা রিটের ওপর আদেশের জন্য আগামী বুধবার (২১ মে) দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।
\r\nমঙ্গলবার (২০ মে) বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই দিন নির্ধারণ করেন।
\r\nদিনের প্রথম ভাগে দুপুর ১টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত প্রথম দফা শুনানি হয়। এরপর বিকেল ৪টা ১০ মিনিট থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলে দ্বিতীয় দফার শুনানি।
\r\nরিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। আর ইশরাক হোসেনের পক্ষে ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মিলন ও খান জিয়াউর রহমান।
\r\nরিটে বলা হয়, নির্বাচন শেষে মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবুও দীর্ঘ সময় পর দেওয়া রায় ও গেজেট প্রকাশের আইনি বৈধতা নেই। তাই ২৭ মার্চের আদালতের রায় এবং ২৭ এপ্রিলের গেজেট বাতিল চাওয়া হয়েছে।
\r\n২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হন বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন। পরে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ এনে ২০২০ সালের ৩ মার্চ আদালতে মামলা করেন তিনি।
\r\nচার বছর পর, ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ, ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম রায় দেন। রায়ে ইশরাককে বৈধ বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনকে ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
\r\nনির্বাচন কমিশন সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ২৭ এপ্রিল ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।
\r\nগেজেট প্রকাশের পর রফিকুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ নামে দুই ব্যক্তি আপত্তি জানিয়ে আইনি নোটিশ দেন। তারা বলেন, মেয়র পদ ইতোমধ্যেই অধ্যাদেশের মাধ্যমে শূন্য ঘোষণা করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাই এই রায়ের কার্যকারিতা নেই। এরপর মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
\r\nরিটে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন রায় কার্যকর করে গেজেট প্রকাশ করেছে অথচ তাতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
\r\n




