ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নতুন বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে ইসফাহানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-এর ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে সংবাদ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অস্থিরতা মোকাবিলায় সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আন্দোলন শুরুর পর থেকে অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিদেশি উসকানিদাতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে ফারদিসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর দাবি করা হলেও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অর্থনৈতিক দুর্ভোগ স্বীকার করেছেন, তবে সহিংসতার জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করেছেন। ইরান সরকার জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলার জবাবে সীমাহীন প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত ভিডিওতে বিভিন্ন শহরে আগুন, কাঁদানে গ্যাস ও গোলাগুলির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এতে অনেক হতাহতের ঘটনা সহিংস সংঘর্ষের ফল।
বুধবার নতুন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের লক্ষ্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের আলাদা করার নির্দেশ দিয়েছেন।





