ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক অসন্তোষের মাঝে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৮ আইআরজিসি সদস্য নিহত হয়েছেন। ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড পতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীরা সড়কে নামেন। দ্রুত এই বিক্ষোভ তেহরানের বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ ও কেরমানশাহসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

সরকার সীমিত আর্থিক সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার প্রদানের ঘোষণা দিলেও বিক্ষোভ থামেনি। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন; এর মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য। এক হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানাচ্ছে, বিক্ষোভে অন্তত ৩০০ পুলিশ ও আইআরজিসি সদস্য আহত হয়েছেন।

ইরানের বিক্ষোভ দমনকাজে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার কারণে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিন দেশের নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে, ইরানকে নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানও এই সহিংসতার জন্য ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, যারা সরকারি ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, তথাকথিত শত্রুর পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়া সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, অস্থিরতা দমনে কর্তৃপক্ষ পিছু হটবে না। একইসঙ্গে বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেছেন।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির ইংরেজি অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সরকার বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছে। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ভাষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যে কোনো মুহূর্তে দেশের জুড়ে বড় ধরনের দমন অভিযান শুরু হতে পারে।