সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশীয় বাজারে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এপ্রিলে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা ও পেট্রোল ১১৬ টাকা বিক্রি হবে। মার্চ মাসে ভর্তুকি হিসেবে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে, আর জুন পর্যন্ত তা ১৬ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
অবৈধ মজুতদারি ও আতঙ্কের কেনার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মার্চে ৩ লাখ লিটারের বেশি তেল জব্দ ও ১ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নিয়মিত আমদানির চালানও পাইপলাইনে আছে।
জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টনের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে। এছাড়া এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে বিএআরসি।
চলমান ইরান যুদ্ধ ঘিরে ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমনকি ইতোমধ্যেই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলেও বলা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘ হলে শুধু জ্বালানি সংকটই নয়, বড় অর্থনীতির দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতিসহ মন্দার মুখে পড়তে পারে। এমনকি যুদ্ধ শেষ হলেও প্রভাব কাটতে লাগতে পারে সময়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে— এমন আশঙ্কার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক পিল হান্ট।
তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘ হলে বড় অর্থনীতির দেশগুলো ‘মুদ্রাস্ফীতিজনিত মন্দার’ ঝুঁকিতে পড়বে। অর্থাৎ, একই সঙ্গে দাম বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
ব্যাংকটি বলছে, এখন যদি দ্রুত যুদ্ধ শেষও হয়, তবুও অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে এর অর্থনৈতিক প্রভাব চলবে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ প্রণালি হয়তো বন্ধই থেকে যেতে পারে।
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হরমুজ প্রণালি খুলে না দিয়েই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ট্রাম্প ব্রিটেনসহ অন্য দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যেন নিজেরাই তাদের তেলের ব্যবস্থা করে এবং হরমুজ প্রণালির সমস্যাও নিজেরাই সমাধান করে।





