জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার ভাষণে ইরান ও আঞ্চলিক প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি ইরাকি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ওপর সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে এই গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইরাকের পক্ষ থেকে এই হুমকিকে দেশটির সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন সতর্ক করে বলেছেন, “ইরাকের যে কোনো নাগরিকের ওপর হামলা গোটা জাতির ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।”

ইরানি বিশ্লেষক মোহাম্মদ বাঘের হেইদারি বলেন, নেতানিয়াহুর এ ধরনের বক্তব্য নতুন নয়। ইসরাইলি কর্মকর্তারা বহু বছর ধরে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। প্রায় এক বছর আগে একটি হুমকির সময় ইরাক জাতিসংঘে অভিযোগ দায়ের করে, যা আক্রমণ প্রতিহত করেছিল।

হেইদারি ব্যাখ্যা করেন, ইসরাইলের নীতি দুইটি দিকের—আঞ্চলিক এবং ইরাকের অভ্যন্তরীণ। আঞ্চলিকভাবে, তারা ‘গ্রেটার মিডল ইস্ট’ প্রকল্প ও কথিত ‘ডেভিড করিডোর’ গঠনের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এই করিডোর সিরিয়ার একটি বড় অংশ থেকে ইরাকের এরবিল ও সুলাইমানিয়া হয়ে পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইরাকের অভ্যন্তরে ইসরাইল সাতটি ফ্রন্টে সামরিকভাবে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে—গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরান ও ইরাক। এদের মধ্যে ছয়টিতে ইতিমধ্যেই অভিযান চালানো হয়েছে, এখন একমাত্র লক্ষ্য ইরাক।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই হুমকি ইরাকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। সমন্বয় ফ্রেমওয়ার্ক জোট নির্বাচনে জয়ী হলে ইসরাইলের জন্য তা অস্বস্তিকর হবে। নির্বাচনের ব্যর্থতা দেশটিতে অস্থিরতা ও সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্ম দিতে পারে।

গত বছরই ইরাকি প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির একটি সমঝোতা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, গোষ্ঠীগুলো আপাতত হামলা করবে না, তবে ইসরাইল আক্রমণ করলে তারা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেবে। হেইদারির মতে, নেতানিয়াহুর হুমকি সত্ত্বেও প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইরাক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, নেতানিয়াহুর হুমকি শুধুমাত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী নয়, বরং সমগ্র দেশের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি ইরাকে এক নতুন অস্থিরতার সূচনা করতে পারে।