ভারতের শীর্ষ বিমানসংস্থা ইন্ডিগো পরপর তিন দিন ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল করায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার একদিনেই ৬০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, আগের দিন বাতিল হয়েছিল প্রায় ৫৫০টি। হঠাৎ বাতিলের কারণে বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে খাবার আর আশ্রয় ছাড়াই কষ্ট পোহাতে হয়েছে বহু যাত্রীকে। অন্যদিকে, এ সুযোগে অন্যান্য বিমানসংস্থার টিকিটের দাম বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

\r\n

সংকট কারণ -

\r\n

এই অস্থিরতার পেছনে দায়ী করা হচ্ছে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএর নতুন বিধিকে। ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ নামের নিয়মে পাইলটদের জন্য সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা বাধ্যতামূলক বিশ্রাম, প্রতি সপ্তাহে মাত্র দুটি নাইট-ল্যান্ডিংয়ের সুযোগ এবং সপ্তাহে কেবল একবার টানা দুই দিন নাইট ডিউটির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

\r\n

বিধিটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হলেও কার্যকরের সময় বারবার পিছিয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্ট নির্দেশ দিলে জুন ও নভেম্বর মাসে ধাপে ধাপে নিয়মগুলো কার্যকর করা শুরু হয়।

\r\n

ইন্ডিগো ভারতের সবচেয়ে বড় এবং তুলনামূলক সস্তা বিমান পরিষেবা সংস্থা। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ১৩৫টির মতো গন্তব্যে তাদের ফ্লাইট চলে। সংস্থাটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইটই রাতে পরিচালিত হয়। তাই নতুন বিধির ফলে পাইলট ও কর্মীসংকট তীব্র আকার নেয়। ইন্ডিগোও কর্মী-অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করে একাধিকবার যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

\r\n

‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস’ বলছে, নতুন বিধি ঘোষণার পর দুই বছর সময় পাওয়া সত্ত্বেও ইন্ডিগো প্রয়োজনীয় নিয়োগ ও প্রস্তুতি নেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়াও বন্ধ ছিল। একই অভিযোগ করেছে ‘এয়ারলাইন্স পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন’। তাদের দাবি, নিয়ম শিথিল করাতে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই ইন্ডিগো যথাযথ প্রস্তুতি নেয়নি, যার ফল এখন ভুগছে যাত্রীদেরই।

\r\n

সরকারের তদন্ত নির্দেশ-

\r\n

বৃহস্পতিবার রাতে এক পোস্টে ইন্ডিগো জানায়, প্রযুক্তিগত সমস্যা, শীতকালীন সময়সূচি, আবহাওয়ার পরিবর্তন, বিমান চলাচলের ভিড় এবং সংশোধিত কর্মঘণ্টা—এসব কারণে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত কারণ জানতে শুক্রবার কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

\r\n

যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সমাধান খুঁজতে এখন চাপ বাড়ছে ইন্ডিগো ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর।