ইংল্যান্ডে শুরু হতে যাচ্ছে গনোরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রথম নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি। চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে এই কর্মসূচি চালু হবে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ (এনএইচএস)। তবে শুরুতে সবার জন্য এই টিকা উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।

\r\n

প্রাথমিক পর্যায়ে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে সমকামী ও উভকামী পুরুষদের, যাঁদের একাধিক যৌনসঙ্গী রয়েছে অথবা যৌনবাহিত রোগের (এসটিআই) ইতিহাস আছে।

\r\n

টিকাটি মূলত মেনিনজাইটিস-বি প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি সরাসরি গনোরিয়ার জন্য তৈরি নয়। তবে দুই রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হওয়ায়, গবেষণায় দেখা গেছে এই টিকা গনোরিয়ার সংক্রমণ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমাতে পারে।

\r\n

ইংল্যান্ডে ২০২৩ সালে রেকর্ডসংখ্যক ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ গনোরিয়ায় আক্রান্ত হন, যা ১৯১৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর সর্বোচ্চ।

\r\n

এনএইচএসের মতে, এই টিকা সংক্রমণ হারের ঊর্ধ্বগতি থামাতে সাহায্য করবে এবং যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোর চাপও অনেকটাই কমাবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, টিকাটি জনপ্রিয়তা পেলে আগামী ১০ বছরে প্রায় ১ লাখ সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে এবং এতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় ৮০ লাখ পাউন্ড সাশ্রয় হবে।

\r\n

যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা প্রচারকর্মী ম্যাক্স বলেন, “আমি এক বছরে দুবার গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছি। তাই টিকাটি শতভাগ নেওয়ার পক্ষে আমি। এটি ক্লিনিকগুলোর ওপর চাপ কমাবে, যা একটি বড় অর্জন।”

\r\n

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যেহেতু টিকাটি পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে পারে না, তাই সচেতনতা, নিরাপদ যৌনাচরণ ও নিয়মিত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

\r\n

ব্রিটিশ যৌনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সেক্সুয়াল হেলথ অ্যান্ড এইচআইভির সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট ফিলিপস বলেন, “এই উদ্যোগ যৌনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। রোগ শনাক্তের হার যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে, তখন এই টিকা সেই প্রবণতা পাল্টাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

\r\n

এই টিকা শরীরে কতদিন কার্যকর থাকবে এবং ভবিষ্যতে বুস্টার ডোজ প্রয়োজন হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

\r\n

টিকাদান কর্মসূচির সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের যৌথ টিকা ও প্রতিরোধ বিষয়ক কমিটি (জেসিভিআই) থেকে সুপারিশ পাওয়ার প্রায় দেড় বছর পর এসেছে। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় সমালোচনা হলেও, যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা এই পদক্ষেপকে একটি “বড় বিজয়” হিসেবে দেখছেন।

\r\n

স্কটল্যান্ডের স্বাস্থ্য সংস্থাও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য একই ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে। ইংল্যান্ডে যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকের মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া হবে, একই সঙ্গে এমপক্স, এইচপিভি ও হেপাটাইটিসের টিকাও দেওয়া হবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের।

\r\n

গনোরিয়ার চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধযোগ্যতা বাড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই টিকাদান কর্মসূচি সংক্রমণ কমিয়ে ওষুধপ্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে।

\r\n

এনএইচএস ইংল্যান্ডের চিকিৎসা পরিচালক ড. আমান্ডা ডয়েল বলেন, “এই টিকাদান কর্মসূচি যৌনস্বাস্থ্য রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি বহু মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ প্রতিরোধেও সহায়ক হবে।”