ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: রাজধানীতে আড়ং থেকে মায়ের জন্য কাপড় কিনতে গিয়ে শপিং ব্যাগ না পাওয়ায় তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে শোরুম ত্যাগ করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নারী নেতা।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাতের দিকে উত্তরা জসিম উদ্দিন রোডের আড়ং শোরুমে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ছবিতে দেখা যায়, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কাঁখে কিছু কাপড় নিয়ে বের হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন শুভ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আড়ং থেকে কেনাকাটা করতে গিয়ে এর আগে বহুবার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিন্তু আজ এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। একজন সংসদ সদস্যকে এ ধরনের সম্মান দেখানো উচিত ছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা গ্রাহকরা টাকা দিয়ে পণ্য কিনি। কিন্তু সেই পণ্য বহনের জন্য সাধারণ একটি শপিং ব্যাগও পাওয়া যাবে না—এটা কেমন নিয়ম? পরিবেশ রক্ষার কথা বলে যদি শপিং ব্যাগ দেওয়া বন্ধ করা হয়, তবে বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত। এখানে দেখা যাচ্ছে, গ্রাহকের সুবিধার চেয়ে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। একটি ব্র্যান্ডের দায়িত্ব থাকে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে গ্রাহকের প্রতি সম্মান দেখানোর। আমি মনে করি, গ্রাহকের ন্যূনতম সম্মান নিশ্চিত করা প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মোবাইল ফোনে জানান, “ইফতারের পর উত্তরা জসিম উদ্দিন রোডের আড়ং শোরুমে গিয়েছিলাম। মায়ের জন্য চারটি ম্যাক্সি কিনি। কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সাড়ে চার হাজার টাকার বিলের সঙ্গে কোনো ব্যাগ দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানায়, কাপড়ের জন্য অতিরিক্ত ৪০ টাকা দিতে হবে। আমি প্রশ্ন তুলি, কেন কাপড়ের জন্য অতিরিক্ত ৪০ টাকা দিতে হবে? এ অদ্ভুত মনে হয়। এই কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে আমি কাপড় নিয়ে চলে আসি।”
তিনি আরও বলেন, “মায়ের জন্য কেবল আড়ংয়ে গিয়েছিলাম। মায়ের ম্যাক্সির মাপ শুধু আড়ংয়ে পাওয়া যায়। অন্য দোকানে মিল নেই। নিজের জন্য কখনোই আমি আড়ং থেকে কাপড় কিনি না।”
উত্তরা জসিম উদ্দিন রোডের আড়ং শোরুমের টিএনটি নাম্বারে ফোন করার চেষ্টা করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি।





