গাজায় নতুন করে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, এতে আরও ৩০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকের দেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে মরদেহগুলো ফিলিস্তিনে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।


যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবারের হামলায় কমপক্ষে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।


ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পূর্ব গাজার শুজাইয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন। একইভাবে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে গুলিতে আরও একজন নিহত হন। এছাড়া আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরেক ফিলিস্তিনি মারা যান।


মধ্য গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ-জাহরা এলাকায় আবু মেদিন পরিবারের একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে বিভিন্ন ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে টানা হামলা চালানো হয়।


অক্টোবরের শুরুতে স্বাক্ষরিত বন্দি-বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে নিহত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মরদেহ ফেরত আনা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ হস্তান্তরের পর মোট ২২৫ জনের মরদেহ গ্রহণ করা হয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মেডিকেল টিমগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে মরদেহ শনাক্তের কাজ করছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর নথিভুক্তি সম্পন্ন করা হচ্ছে।


চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফেরত পাওয়া মরদেহগুলোর অনেকটিতে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে—কিছু মরদেহে চোখ বাঁধা, হাতকড়া পরানো, দেহ পচে যাওয়া বা পোড়া, এমনকি অনেকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা দাঁতও অনুপস্থিত।


ইসরায়েল বর্তমানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই কারাগারে আটকে রেখেছে, এবং বন্দিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ বহু বছর ধরেই উঠে আসছে। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নির্যাতন আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তির আওতায় হামাস ২০ জন জীবিত বন্দিকে মুক্তি দেয়, বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং গাজার নগর এলাকা থেকে আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার করেছে।


তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৪৬ শিশু ও ২০ নারীসহ অন্তত ১০৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।