জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলেও তার দল কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তবে যারা কালো টাকার দিকে হাত বাড়াবে, তাদের সে হাত কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জয়ী হলে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করব। মানুষের সম্পদ ও ইজ্জতের দিকে কেউ হাত বাড়াতে পারবে না। আমরা কোনো আধিপত্যের কাছে মাথা নত করব না। ভয় দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা খবর পাচ্ছি, আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করা হচ্ছে এবং তাদের সম্মানহানি করা হচ্ছে। একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
যুবসমাজ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা যুবকদের ভাতা দিয়ে ছোট করতে চাই না। বরং তাদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করতে চাই। এতে তাদের সম্মান আরও বাড়বে।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেকেই আজ জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তবে বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা পরিবর্তন চায়, সংস্কার চায় এবং পুরোনো, জীর্ণ ও পচা রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।
ডা. শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ অন্যান্য নেতারা।
এ সময় সাতক্ষীরা-০১ (তালা ও কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-০২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-০৩ (আশাশুনি ও কালিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-০৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।





