রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, দাবিগুলো পূরণে যা যা করা প্রয়োজন, সব কিছুই পর্যায়ক্রমে করা হবে। তিনি বলেন, ‘তাওয়া গরম করছি। তাওয়া গরম হতে সময় লাগে, কিন্তু গরম হলে তাতে বুট দিলেই ফুটতে দেরি হয় না।’
তিনি আরও বলেন, জামায়াত কখনো দখল বা চাঁদাবাজির রাজনীতি করে না, বরং জনগণের অধিকার ও কল্যাণের রাজনীতি করে। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, প্রশাসনে যে ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি সময়মতো সতর্ক না হয়, তাহলে কারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের নাম-পরিচয় ও কথাবার্তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। “আমাদের কাছে তাদের কণ্ঠ রেকর্ড আছে, মিটিংয়ে দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রয়েছে,”—বলেন তাহের।
সম্প্রতি প্রশাসনে একজন সচিব নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একজন উপদেষ্টা জামায়াত নেতাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, কোনো দলীয় বা দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়া হবে না। কিন্তু আশ্বাস দেওয়ার একদিন পরেই ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটেছে—এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ রয়েছে এবং যিনি একটি দলের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায়ও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে—একটি বিশেষ দল কর্তৃক পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেওয়ার প্রবল চাপ রয়েছে। তাহের বলেন, “এইভাবে প্রশাসনে দলীয় লোক বসিয়ে যে নীলনকশার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তা কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। ২০২৪ বা ২০১৮ সালের মতো পাতানো নির্বাচনে জনগণ আর অংশগ্রহণ করবে না।”
মানববন্ধন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। আরও বক্তব্য দেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, আবদুল হালিমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।





