দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে পৌঁছেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শনিবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের উৎক্ষেপণ মঞ্চে নেওয়া হয়েছে নাসার শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযান।
মানববাহী এই ঐতিহাসিক অভিযানের নাম আর্টেমিস–২। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে মিশনটি এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার ধাপে প্রবেশ করেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি রকেটটি চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে পারে।
নাসার ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে কমলা ও সাদা রঙের এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযানটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কেনেডি স্পেস সেন্টারের ৩৯-বি লঞ্চ প্যাডে নেওয়া হয়।
পরীক্ষা সফল হলে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে তারা চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবেন, তবে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবেন না।
এই মিশনটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ঘোষিত ‘চাঁদে ফেরার’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রকেট স্থানান্তরের সময় উৎক্ষেপণস্থলে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হ্যানসেন বলেন, “কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চারজন মানুষকে চাঁদের চারপাশে ঘুরতে দেখা যাবে—ভাবতেই রোমাঞ্চকর।” ভিক্টর গ্লোভার বলেন, “আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে এগোচ্ছি।”
উড্ডয়নের আগে এসএলএস রকেটের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলীরা একাধিক পরীক্ষা চালাবেন। এর মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সিমুলেশন বা ডামি মহাকাশযাত্রাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নভেম্বরে নাসা আর্টেমিস–১ নামে একটি মানববিহীন মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল।
চাঁদে ফিরে যাওয়ার এই বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনও সক্রিয় রয়েছে। বেইজিং ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ‘চ্যাং ই–৭’ নামের একটি চালকবিহীন মিশন পাঠানো হবে। একই সঙ্গে মানববাহী মহাকাশযান ‘মেংজু’র পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতি বছর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আর্টেমিস–২ মিশন দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে ২০২৭ সালে নির্ধারিত আর্টেমিস–৩ মিশন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কারণ, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেস–এক্স এখনো প্রয়োজনীয় স্টারশিপ মেগারকেট পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারেনি, ফলে ওই মিশন পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





