আফগানিস্তান, তালেবান কিংবা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ধরে নেয়া হয় যে তারা একইসূত্রে গাঁথা। কারণ, আফগানিস্তানের ক্ষমতায় এখন তালেবান, আর পাকিস্তানভিত্তিক তালেবানের স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হলো টিটিপি।

একবিংশ শতাব্দির শুরু থেকে আফগানিস্তানে মার্কিন হামলায় পাকিস্তানের সহযোগিতার অভিযোগ এনে পাক সেনাবাহিনীকে দায়ী করে এসেছে তালেবান, টিটিপি এবং এই অঞ্চলে থাকা তাদের মিত্র শক্তিগুলো। আর তাই আফগানিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে পাকিস্তান বিশেষ করে দেশটির সেনাবাহিনীর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করে গোষ্ঠীগুলো।


এর জের ধরেই বহু বছর ধরে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে একরকম যুদ্ধ করে আসছে টিটিপি। তবে, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে কিছু সময় পর আবারও গোষ্ঠীটি পাকিস্তানে হামলার পরিধি বাড়ায়। গত কয়েক বছরে টিটিপির হাতে প্রাণ গেছে বহু পাক সেনা, পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের। এসব ক্ষেত্রে অনেকটা চুপ থেকেছে আফগান তালেবান। পাকিস্তান তাদের বিরুদ্ধে টিটিপিকে ভূখণ্ড ব্যবহার, আশ্রয় ও সহায়তার অভিযোগ আনলেও স্পষ্ট কোনো অবস্থান তেমনভাবে তুলে ধরেনি কাবুল।


এমন পরিস্থিতিতে গেল বছর অক্টোবরে আফগানিস্তানে সরাসরি অপারেশন চালানোর পর আবার আফগান ভূখণ্ডে আরও বড় ধরনের অপারেশন শুরু করেছে পাকিস্তান। ২০২৫ সালের ওই অপারেশনে শুধু আফগানিস্তানে থাকা টিটিপির আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালালেও বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শুরু করা পাক বাহিনীর নতুন অপারেশনে টার্গেট করা হয়েছে পুরো তালেবান গোষ্ঠীকে। এতে নিহত হয়েছে ৩ শতাধিক তালেবান সদস্য- এমন দাবি ইসলামাবাদের। অন্যদিকে পাল্টা হামলায় তালেবানও অর্ধশতাধিক পাক সেনা নিহতের দাবি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে সংঘাত, হামলা কিংবা রক্তপাত দিয়েই কী পাকিস্তান এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে?


এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে পাকিস্তান দুই যুগেও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কিছুটা হলেও সংঘাত বন্ধ করতে সক্ষম হতো, কিন্তু তারা তা পারেনি। বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেছিলেন, দমন নীতিতে নয়, আলোচনা করেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এজন্য তিনি দোষারোপ করেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে। হয়তো এ কারণেই তার এ পরামর্শ দেশটির সামরিক বাহিনী কখনও আমলেই নেয়নি।