আজ (১১ অক্টোবর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি জানানোর এই দিনে ইসলাম কী বলে কন্যাদের নিয়ে, তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

ইসলামে কন্যাশিশু কেবল পরিবারের সদস্য নয়, বরং আল্লাহর রহমত হিসেবে বর্ণিত। নবী করিম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি দুই বা ততোধিক কন্যাশিশুকে সুন্দরভাবে লালন-পালন করে, তাদের শিক্ষা দেয় এবং জীবনের প্রয়োজন মেটায়—সেই ব্যক্তি জান্নাতের নিশ্চয়তা পাবে।” (মুসলিম)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, “যে কন্যাসন্তানকে কষ্ট না দিয়ে ভালোভাবে প্রতিপালন করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন আগুন থেকে মুক্ত রাখবেন।” (বুখারি)

জাহিলিয়াত যুগে যেখানে কন্যা সন্তান জন্মকে লজ্জার মনে করা হতো, ইসলাম সেখানে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তান জন্মের খবর দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে ক্রোধে পূর্ণ হয়।” (সূরা নাহল: ৫৮)
এ আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম স্পষ্টভাবে সেই মনোভাবকে নিন্দা করেছে।

আজকের দিনে কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা ইসলামের মানবিক শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়েরই অংশ। ইসলাম শুধু মেয়েশিশুর জন্মকে আশীর্বাদ বলে গণ্য করেনি, বরং তার শিক্ষা ও উন্নত জীবনযাপনের অধিকারকে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামের দৃষ্টিতে কন্যাদের প্রতি সম্মান ও যত্ন শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং সামাজিক অগ্রগতির মূল ভিত্তি।

সারকথা, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ইসলামের শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কন্যারা বোঝা নয়, বরং আশীর্বাদ। তাদের সম্মান ও সুযোগ নিশ্চিত করাই প্রকৃত মানবিক সমাজের চিহ্ন।