আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা-২০২৫ এর স্টল বরাদ্দের লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত এ প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) আব্দুস সালাম খান, সচিব, প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক, বইমেলা কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং স্টলের জন্য আবেদনকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

লটারির মাধ্যমে সবার সামনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মোট প্রায় ১৪০টি স্টল (সিঙ্গেল ও ডাবল মিলিয়ে) বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকাশকরা জানান, এভাবে ন্যায্য ও উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে স্টল বণ্টন হওয়ায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

এর আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি এবং মেলা কমিটির সদস্যরা মেলার স্টল নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তাঁরা নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন এবং নিরাপত্তা ও দর্শনার্থী সুবিধার বিষয়ে কিছু দিকনির্দেশনা দেন।

এবারের ইসলামি বইমেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান, মিশর ও লেবানন থেকে আসা চারটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি দেশীয় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক প্রকাশনী তাদের বই প্রদর্শন করবে।
 
প্রথমবারের মতো বায়তুল মোকাররমের পূর্ব গেইট থেকে দৈনিক বাংলার মেইন রোড পর্যন্ত মেলার স্টল বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে শিশুচত্বর, মিডিয়া কর্ণার, মহিলাদের আলাদা বসার স্থান, লিটল ম্যাগাজিন কর্ণার, লেখক কর্ণার, চা, কফি, ফুড কর্ণার ও ইনফরমেশন সেন্টার। এছাড়া থাকবে বিশাল মঞ্চ, যেখানে বই মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা ও বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বিকেলে মাননীয় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর থেকে মাসব্যাপী বইমেলা চলবে।
 
বাংলাদেশে ইসলামি বইমেলার যাত্রা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে। শুরুতে সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত হলেও ধীরে ধীরে এর ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমকে কেন্দ্র করে এটি দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি গ্রন্থমেলায় পরিণত হয়েছে।

দেশি-বিদেশি প্রকাশকদের অংশগ্রহণে এ মেলা এখন ইসলামী সাহিত্যচর্চা, গবেষণা ও জ্ঞান বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের সঠিক পথে অনুপ্রাণিত করতে এ বইমেলা বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে বলে মনে করেন আয়োজকরা।