আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড প্লে করে শোনানো হয়েছে। এতে শেখ হাসিনাকে নিরাপত্তা বাহিনীকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিতে শোনা যায়।
\r\nট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ৫৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, তদন্তের সময় শেখ হাসিনার ৬৯টি অডিও ক্লিপ ও তিনটি মোবাইল নম্বরের কললিস্ট জব্দ করা হয়। এর মধ্যে চারটি কল রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
\r\nকল রেকর্ডে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়:
\r\n“আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়েছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে। যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে। আমি বলছি যা যা পোড়াতে… ও আমাদের সেতু ভবন পোড়াইছে।”
প্রসিকিউশন জানায়, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার এবং প্রশাসনের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। এসব অপরাধের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে।
\r\nএই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হয়েছে। গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-১ এ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
\r\nআসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন ও যায়েদ বিন আমজাদ শুনানিতে অংশ নেন। অপরদিকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিম আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
\r\nএই মামলার বাইরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। একটি গুম-খুনের ঘটনায় এবং অন্যটি রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।





