পঞ্চমীতে বোধন এবং ষষ্ঠীতে আমন্ত্রণ, অধিবাস ও ষষ্ঠীবিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ মহাসপ্তমী। ষষ্ঠী থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও সপ্তমী থেকেই মূল পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

এই তিথিতেই দেবীর অন্নভোগ শুরু হয়। বিশ্বাস করা হয়, আজ দেবী দুর্গা জাগ্রত হবেন এবং দশভুজা রূপে অশুভ শক্তিকে দমন করবেন।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের মধ্যেই নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে মহামায়াকে জাগিয়ে তোলা হয়। মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ আরতি ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীর বন্দনা চলে।

শাস্ত্রমতে, এ বছর দেবী গজ বা হাতিতে চড়ে আসছেন, যার অর্থ মর্ত্যলোক ভরে উঠবে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধিতে। তবে দেবী বিদায় নেবেন দোলায় চড়ে। পালকিতে আসা বা যাওয়ার অর্থ হলো পৃথিবীতে মহামারি, ভূমিকম্প, খরা, যুদ্ধ বা অতিমৃত্যুর আশঙ্কা।

আজ সকালে অনুষ্ঠিত হয় নবপত্রিকা স্থাপন। ‘নবপত্রিকা’ শব্দের অর্থ নয়টি পাতা। কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, দাড়িম, অশোক, মান ও ধান—এই নয়টি গাছের পাতা একত্র করে কলাগাছের সঙ্গে বাঁধা হয়। পরে বেলফল ও অপরাজিতা লতা দিয়ে সজ্জিত করে লালপাড় সাদা শাড়ি পরানো হয়, যেন এক নববধূ। প্রচলিতভাবে একে ‘কলাবউ’ বলা হয়।

নবপত্রিকার এই নয়টি উদ্ভিদ দেবী দুর্গার নয়টি বিশেষ রূপের প্রতীক। নবপত্রিকা প্রবেশের পর দর্পণে প্রতিফলিত প্রতিমায় দেবীকে মহাস্নান করানো হয়, যাকে বলা হয় দর্পণ-স্নান।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির, আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, গুলশান-বনানী পূজা মণ্ডপ, পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে।

উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুধু ঢাকা মহানগরেই ২৫৯টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা, আর বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এ বছরের দুর্গোৎসব।