গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি ও গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সারাবিশে^ আজ পালিত হবে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। জাতিসংঘের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

২০০৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালনের ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ। তারপর থেকে বিশ্বজুড়ে বিশেষ তাৎপর্যে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে। এবারে বাংলাদেশে দিবসটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নীতিনির্ধারণে সমান অধিকার ভোগ করে। সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচন, আইন প্রণয়ন ও প্রস্তাবনায় নাগরিকদের সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, গণতন্ত্র মানেই জনগণের শাসন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর দেশ এখন গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে হাঁটছে। দীর্ঘ সময়ের দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশে বাধা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসানে জন্ম নিয়েছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থার পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে নতুন সরকারের নানা পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে শুধু নির্বাচন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।

চলতি বছর পালিত হচ্ছে ১৮তম গণতন্ত্র দিবস। দিবসটি উপলক্ষে এক বাণী দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এতে ‘সংলাপ, অংশগ্রহণ এবং আস্থার মাধ্যমে যেখানেই মানুষ তাদের সমাজ গঠনের সাহস’ দেখাচ্ছেন তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার (আজ) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতিসংঘের গণতন্ত্র তহবিল।