আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রচারমূলক বা ডিসইনফরমেশনের ৯০ শতাংশের বেশি ভারতের মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম এই নির্বাচনে জনমত প্রভাবিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অসংখ্য ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে।

\r\n

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতিপূর্বে জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের কাছে এই পরিস্থিতির জন্য সহযোগিতা চেয়েছিলেন। প্রতিবেদন বলছে, অপপ্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের দাবি। ‘হিন্দু জেনোসাইড’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৭ লাখ পোস্ট করা হয়েছে।

\r\n

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ অর্গানাইজড হেট’-এর প্রধান রকিব নায়েক জানিয়েছেন, এই অপতথ্যের ৯০ শতাংশই ভারত থেকে ছড়ানো হয়েছে, বাকি অংশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্ক থেকে এসেছে। যদিও পুলিশি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটনার মাত্র ১২ শতাংশই ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক ছিল।

\r\n

এছাড়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও AI-উৎপন্ন ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে তৈরি করা ভুয়া ভিডিওর কারণে জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

\r\n

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এর পেছনে সরাসরি ভারত সরকারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের চরমপন্থী কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

\r\n

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেটার সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিশেষ মনিটরিং ইউনিট গঠন করেছে। কমিশনের মুখপাত্র রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, অনলাইন জগতের এই বিশাল স্রোত নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তথ্য যাচাইয়ের সচেতনতার অভাবে সাধারণ ভোটাররা AI-নির্ভর ভুয়া দৃশ্যগুলো দেখে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সতর্ক করেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন তুলি।