মোঃ জাফর আলী, নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী এবং সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য মহুয়া নূর কচিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চায় নাটোরের সাধারণ মানুষ।
তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এ প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর দলীয় কর্মসূচি পালনকালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন মেধাবী তরুণ নেতা শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবু।
বাবু হত্যার দুই দিন পর, ১১ অক্টোবর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার বাড়িতে এসে বাবুর অবুঝ তিন কন্যা ও শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তিনি বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নূর কচিকে যোগ্য স্থানে মূল্যায়নের আশ্বাস দেন বলে জানা যায়।
স্বামীর মৃত্যুর পর গভীর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন মহুয়া নূর কচি। তিনি জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো অদৃশ্য কারণে স্বামীর মৃত্যুর ন্যায়বিচার এখনো পাননি তার পরিবার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব সানজিদা ইয়াসমিন তুলির নামও আলোচনায় রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক অবস্থান, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের জন্য ব্যক্তিগত ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনায় এনে নাটোরবাসীর একটি বড় অংশ মহিলা সংরক্ষিত আসনে মহুয়া নূর কচিকেই দেখতে চাচ্ছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, ত্যাগ ও আদর্শের রাজনীতির ধারাবাহিকতায় তাকে মনোনীত করলে দল আরও শক্তিশালী হবে এবং নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণও আরও বেগবান হবে বলে সবার প্রত্যাশা।