রাজশাহীতে এক আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে বিএনপির শীর্ষ নেতার সফর নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকার সম্প্রতি গোদাগাড়ীর খেতুরী ধামে যান সুনন্দন দাস রতনের প্রাইভেট কারে। রতন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক ও বিতর্কিত সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা।

\r\n

১১ জুন দুপুরে ধামের সামনে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রতনের কালো গাড়ি থেকে নামছেন বিশ্বনাথ সরকার, তার ভাতিজা অলোক সরকার আলো এবং সেন্টু সরকার নামে এক ব্যক্তি। গাড়ির চালক ইসরাইল হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গাড়ির মালিক সুনন্দন দাস রতন এবং তিনিই রাজশাহী শহর থেকে ওই তিনজনকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

\r\n

অবশ্য বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিশ্বনাথ সরকার। তিনি বলেন, “রতনকে আমি চিনিই না। তাঁর গাড়িতে ওঠার প্রশ্নই আসে না। আমরা শুধু একটি মিলনমেলা ও আলোচনা সভা করতে গিয়েছিলাম।”

\r\n

তবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশিষ রায় মধু এই মিলনমেলার পেছনে ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেছিলেন সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। বোর্ডের সদস্যরা সবাই আওয়ামী লীগ ঘরানার। হিন্দু কমিউনিটির দাবিতে আমরা এটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।”

\r\n

এদিকে ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে নানা অনিয়মের অভিযোগে সুনন্দন দাস রতনকে বোর্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি বোর্ড ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপি নেতারা ধামে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছেন।

\r\n

বোর্ড সভাপতি বিদ্যুৎ নারায়ণ সরকার রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বিএনপি নেতারা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম ভাঙিয়ে মিলনমেলার কথা বললেও, তার উপস্থিতি নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। এমনকি ওই মিলনমেলার অনুমতিও তারা আগের দিন বিকেলে চেয়েছিল, যা নিয়মবহির্ভূত।”

\r\n

বিতর্কের আরেক দিক হলো সহদেব কুমার পান্না নামের এক ভক্তকে মারধরের অভিযোগ। এটি অস্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এহসানুল কবির টুকু। তিনি জানান, “আমি ধামে গিয়েছিলাম প্রস্তুতি দেখতে। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা পান্নাকে দেখে বলেছি, বিএনপির অনুষ্ঠানে যেন তিনি না থাকেন। কিন্তু কোনো মারধর হয়নি।”

\r\n

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকটি সংবাদ সম্মেলন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে খেতুরী ধামের ট্রাস্টি বোর্ড ঘিরে জটিল সমীকরণের। বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।