গাজা উপত্যকায় তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ ফিলিস্তিনিদের জীবনকে নতুনভাবে সীমাবদ্ধ করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার রেখা হিসেবে চিহ্নিত এই হলুদ রঙের কংক্রিট ব্লকগুলো এখন কার্যত একটি অভ্যন্তরীণ সীমান্তে পরিণত হয়েছে, যা গাজার প্রায় ৫৮ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
এই রেখা গাজাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে-পূর্বাঞ্চল ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে এবং পশ্চিমাঞ্চল সীমিত চলাচলের সুযোগসহ ফিলিস্তিনিদের জন্য উন্মুক্ত। তবে পশ্চিম অংশেও বিমান হামলা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি রয়ে গেছে।
পূর্ব গাজা সিটির কাছে এই রেখার কয়েক মিটার দূরে তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন চার সন্তানের জনক জায়েদ মোহাম্মদ। তিনি জানান, দিনরাত গোলাগুলি, ড্রোনের শব্দ ও ট্যাংকের উপস্থিতি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। সামান্য দূরে সরে যাওয়াও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলি অভিযানে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬ কোটির বেশি টন ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে। অধিকাংশ বাসিন্দা একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, হলুদ রেখা শুধু চলাচল নয়-মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য, জীবিকা ও কৃষিকাজকেও বিপর্যস্ত করছে। কৃষকরা জমি দেখতে পেলেও সেখানে যেতে পারছেন না, চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে। শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, অনিদ্রা ও মানসিক আঘাত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদ রেখা আনুষ্ঠানিক সীমান্ত না হলেও এটি গাজার দৈনন্দিন বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণ করছে-কোথায় থাকা নিরাপদ, কোন পথে চলা যাবে এবং আদৌ পুনর্গঠনের সাহস করা যাবে কি না, তা এই রেখাই নির্ধারণ করছে।





