পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত উত্তেজনা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আবারও রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ অক্টোবর) আল জাজিরা এ তথ্য জানায়। আফগান কর্মকর্তারা হামলা ও হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন স্থানীয় ক্রিকেটারও রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) জানায়, পাকতিকা প্রদেশের রাজধানী শারানায় একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিন ক্রিকেটার নিহত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে এসিবি।
আফগান তালেবানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, শুক্রবার রাতে পাকতিকা প্রদেশের তিনটি স্থানে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, আফগানিস্তান এর জবাব দেবে।”
এর আগে টানা এক সপ্তাহ সীমান্তে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সেনা ও বেসামরিক মিলে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হওয়ার পর বুধবার ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে দোহায় আলোচনার আগ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছিল।
পাকিস্তানের এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল টিটিপি-সংশ্লিষ্ট হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ। ইসলামাবাদের দাবি, এই গোষ্ঠীই শুক্রবার আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের একটি সামরিক ক্যাম্পে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করে সাতজন আধাসামরিক সেনাকে হত্যা করেছিল।
এদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, আজ শনিবার কাতারের দোহায় পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে অংশ নিতে আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দোহায় পৌঁছেছে। পাকিস্তানের পক্ষে আলোচনায় থাকবেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল আসিম মালিক।





