বেরোবি প্রতিনিধি: আগামীকাল ৫ই আগষ্ট অর্থাৎ ৩৬ জুলাই উদযাপনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গান শোনাবেন বোগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উপ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আবির। 

মঙ্গলবার (৫ ই) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ এ বেলা ১১ টায় ৩৬ জুলাই উদযাপনে সূচনা করবে টং এর গানের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান আবির। 

জানা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বেরোবি সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার অনুসারী ছিলেন আবির।। আরো জানা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উপ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন মাহমুদুল হাসান আবির। 

 গত ২৮ জুলাই আবু সাঈদ হত্যার আসামি বেরোবি সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে বাঁচাতে সরব ছিলেন মাহমুদুল হাসান আবির।এছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত থেকে পেয়েছিলেন জয় বাংলা অ্যাওয়ার্ড।

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি গান লিখে আলেচিত হন গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগ নেত্রীকে পরীক্ষা না দিয়েই পাশ করে দিয়েছে। পরবর্তীতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি কোনো রিপোর্ট জমা দেয় নি।


বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা রুহুল আমিনের সেই গানটি পরবর্তীতে গেয়ে আলোচনায় আসে ছাত্রলীগ নেতা আবির। 

এবিষয়ে জুলাই যোদ্ধা রিফাত রাফি বলেন, কোটা আন্দোলন আর ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন এক বিষয় নয়। সেই সময় অনেকেই ছাত্রলীগের বি-টিম হয়ে কোটা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, মূলত ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষ হয়ে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল হিসেবে। 

কেউ যদি বলে, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের ভরা মৌসুমে অনিচ্ছাকৃতভাবে পদ পেয়েছে—এ কথা বললেও বোবাও কথা বলে প্রতিবাদ করবে! আর যদি সত্যিই অনিচ্ছাকৃত হতো, তবে কেন নিষিদ্ধ সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি নেয়নি? আসলে বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন, হত্যার মতো জঘন্য অপরাধকে বৈধতা দিয়ে পদ বাগিয়ে নেওয়া সেই দালালদের পাপের কাফফারা কেবল কোটা আন্দোলন দিয়ে সম্ভব নয়।

আমার প্রশ্ন হলো—মানুষ কি সত্যিই এত কম যে, একজন নিষিদ্ধ সংগঠনের পদধারী নেতা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ৫ই আগস্ট \"জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ\"-এ গান গাওয়ার সুযোগ পায়? তাহলে এদের সেইফ এক্সিট দিচ্ছে কারা?

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের গান পরিবেশনার বিষয়টি নিন্দা জানিয়ে বেরোবি শাখা শিবিরের সভাপতি সুমন সরকার বলেন, ছাত্রলীগের একজন পোস্টেট নেতা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে জায়গা কিভাবে পেলো ?  কারা ছাত্রলীগকে সহযোগিতা করছে আবারও তাদের পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছে এটা খতিয়ে দেখা দরকার।

এ বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল-আমীন বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি ছাত্রলীগের পোষ্টেট নেতা ঢাকায় গান গাবেন।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার বলার পরও বর্তমান প্রশাসনের সহযোগিতায় ছাত্রলীগকে বিভিন্ন ভাবে পুনর্বাসন করতেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগীতা ছাড়া কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়াগয় ছাত্রলীগ স্থান পায়। এ জন্য তো একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার।