স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার আভাস মিলছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৬ মার্চ ঘিরে সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য পাওয়া গেছে বিভিন্ন সূত্রে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, নিষিদ্ধ কোনো দলের প্রকাশ্য কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্বাধীনতা দিবসের আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক মাঠে ফেরার কৌশল নিচ্ছে দলটি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। যদিও সদ্যবিদায়ী পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের কোনো কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই।
মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার চেষ্টা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পরিত্যক্ত বা সিলগালা হওয়া দলীয় কার্যালয় খুলে প্রতীকী উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্তত ৩৯টি স্থানে এমন উদ্যোগের তথ্য মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েক জেলায় ঝটিকা মিছিল ও পতাকা উত্তোলনের চেষ্টার দৃশ্যও দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় বিক্ষোভের মুখে তা স্থায়ী হয়নি।
রাজধানীর ধানমন্ডি ও গুলিস্তান এলাকাতেও দলীয় কার্যালয়ের সামনে স্বল্প সময়ের প্রতীকী উপস্থিতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
অনলাইন তৎপরতা ও প্রচার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির সাংস্কৃতিক শাখার তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন ভিডিও ও কনটেন্টের মাধ্যমে জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ও বর্তমান সরকারকে লক্ষ্য করে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দিল্লি থেকে নির্দেশনার গুঞ্জন
সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবস্থানরত দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিগগিরই ২৬ মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা দিতে পারেন। পলাতক কিছু নেতা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তারের কৌশল নিতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আদালত ও কারাগারকেন্দ্রিক আবেগ তৈরি করে জনমত গঠনের পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারের অবস্থান
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি পুরোপুরি আইনের আওতায় বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিষিদ্ধ দলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনজ্ঞদের মত
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধন বাতিল ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর কোনো দল পুনরায় সক্রিয় হতে চাইলে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আদালতের রায় বা সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালানো আইনগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বাধীনতা দিবসের মতো সংবেদনশীল দিনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিলে তা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন নির্ভর করছে প্রশাসনের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের ওপর।





