আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ইশতেহারটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত, যেখানে দলের রাজনৈতিক দর্শন, নৈতিক অবস্থান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার প্রকাশ করেন। এতে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্রীয় সংকট থেকে উত্তরণের একটি বাস্তবধর্মী পথনকশা তুলে ধরা হয়েছে।
ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে ২০০৮–২০২৪ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক শাসনের দমন, ভোটাধিকার হরণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দলীয়করণ এবং দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে—সুষম উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা, মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, সার্বজনীন ও নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা, এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান গ্যারান্টিধর্মী কর্মসূচি।
তৃতীয় অধ্যায়ে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নীতি, ইসলামী অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, কওমি মাদরাসা, কৃষক ও শ্রমজীবী অধিকার, নারী ও শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, গণমাধ্যম স্বাধীনতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকারসহ বিস্তারিত কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়ে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, গুম-খুন, ধর্ষণ, ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারের মতো রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ দমনের শূন্য সহনশীলতার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশেষ আইন, স্বাধীন তদন্ত কমিশন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়ে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আদর্শ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যেখানে রাজনীতি হবে জবাবদিহিমূলক, ক্ষমতা হবে দায়িত্বপূর্ণ এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আল্লাহভীতি ও মানবিকতার ভিত্তিতে।
সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ দেশজুড়ে জাতীয় ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





