২০টি দল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট “জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)” আত্মপ্রকাশ করেছে।


সোমবার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। নতুন জোটের চেয়ারম্যান হয়েছেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুখপাত্র রুহুল আমিন হাওলাদার এবং প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।


জোটে থাকা দলগুলোর মধ্যে রয়েছে: জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জাতীয় ইসলামিক মহাজোট, জাতীয় সংস্কার জোট, বাংলাদেশ লেবারপার্টি, স্বাধীন পার্টি, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি, অ্যাপ্লায়েড ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয় লীগ।


আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রন্টটির প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, গোলাম সারোয়ার মিলন, কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক চুন্নু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মহসিন রশীদ প্রমুখ।


সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “সবাই প্রশ্ন করছেন, নির্বাচন হবে কি-না। বর্তমান সরকার এখনও নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা ঠিক না হলে এটি হবে মব কালচারের নির্বাচন। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে?”


তিনি বলেন, “আমাদের হাতে যে সুযোগ এসেছে, সেটিকে ভালোভাবে কাজে লাগানো উচিত। নির্বাচনই গণতন্ত্রের প্রধান পাথেয়। নির্বাচন কমিশন বলছে তারা প্রস্তুত, কিন্তু আমরা তাতে কোনো প্রতিফলন দেখছি না। আশা করি আইনশৃঙ্খলা ঠিক রেখে নির্বাচন হবে, যাতে এটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়।”


জোটের বিষয়ে তিনি জানান, “২০টি দল একত্রিত হয়ে আজ আমরা এই জোট গঠন করেছি। এটি কেবল নির্বাচনি নয়, এটি একটি রাজনৈতিক জোট। জোটে অংশগ্রহণকারীরা সম্মতিতে অংশ নিচ্ছেন। দেশ যে বিভাজনের মধ্যে রয়েছে, আমরা সেই বিভাজন দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি উপহার দিতে চাই।”


সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মাত্র তিন মাসের মধ্যে আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ঠিক করে ফেলেছিল। ১৯৯২, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন এখনও গ্রহণযোগ্য। কেন এমন পরিবেশ এখন সৃষ্টি হচ্ছে না?”


আনিসুল ইসলাম আরও বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন অর্থনীতির জন্য। ভুল করেছি, ক্ষমাও চেয়েছি। কিন্তু কোনো সরকারকে পালিয়ে যেতে হবে, সেটি আমরা চাই না।”


রাজনৈতিক দলের বিরোধপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর প্রধান দলগুলো একে অপরের অতীত নিয়ে কথা বলছে। আমরা চাই না। আমরা চাই ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হোক। প্রশাসন, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতি না করে অতীত নিয়ে মনোযোগ দেওয়াকে আমরা সমর্থন করি না। পুরোনো ভুল ভুলে সামনে এগোতে হবে।”