নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে শীতল নিবাসে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তার শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন।
নেপালের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রেস উপদেষ্টা কিরন পোখারেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির নির্দেশে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে, কে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আসবেন তা নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। আলোচনায় ছিলেন একজন প্রকৌশলী ও মেয়র বালেন শাহও। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত এবং তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্য মুখ সুশীলা কার্কির কাঁধেই দায়িত্ব পড়ে। আল-জাজিরার সাংবাদিক রব ম্যাকব্রাইড জানান, সুশীলাকে 'জেন-জি প্রিয় নেত্রী' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার শুরু হয় গত সোমবার, যখন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। কে পি শর্মা অলি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ হতাহত হন।
পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে প্রধানমন্ত্রী অলি ও তার মন্ত্রিসভা পালিয়ে যান অথবা আত্মগোপনে চলে যান। শুক্রবার পর্যন্ত সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ, ২১ জন বিক্ষোভকারী, ১৮ জন সাধারণ নাগরিক ও ৯ জন বন্দি রয়েছেন।
এদিকে আন্দোলনের সময় জারি করা কারফিউ ও নিষেধাজ্ঞা শুক্রবার পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এখনও থমথমে রয়েছে দেশটির পরিস্থিতি। সামরিক বাহিনী রাজধানী কাঠমান্ডুসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করেছে।
আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, চলমান অস্থিরতার মধ্যে নেপালের বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রায় ১৩,৫০০ বন্দি পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে প্রায় ১,০০০ জনকে পুনরায় আটক করা সম্ভব হলেও বাকিরা এখনও পলাতক।
নতুন সরকারের নেতৃত্বে দেশজুড়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার প্রত্যাশা করছে নেপালের জনগণ।





