দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ হাজার ১১১ জন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।


\r\n

সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছর দেশের মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও নগর এলাকায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল এবং ইজিবাইক দুর্ঘটনার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।


\r\n

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল সড়ক ব্যবস্থাপনা। এছাড়া রাতের বেলায় দীর্ঘপথে যাত্রীবাহী বাস চালানো এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।


\r\n

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদারকির ঘাটতি এবং নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা অডিট না থাকাও প্রাণহানির অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু আইন কঠোর করলেই হবে না; চালক প্রশিক্ষণ, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারী নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।


\r\n

যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কয়েকটি সুপারিশও করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ চালক তৈরিতে প্রশিক্ষণ জোরদার, ফিটনেসবিহীন যানবাহন দ্রুত অপসারণ, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।


\r\n

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে সড়কে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।