বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে দলে এবং দলের বাইরে নানা প্রস্তুতির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত তাঁর ফেরার নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি ঢাকায় অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
\r\nদলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলের পক্ষ থেকে তার ফেরার সম্ভাব্য সময় ঘিরে প্রস্তুতির কথাও শোনা যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি চোখে পড়েনি।
\r\nদলটির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু দলের জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হবে। তাঁর আগমন উপলক্ষে ঢাকায় বড় জমায়েতের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। তবে আষাঢ়-শ্রাবণের বর্ষাকাল ও বৈরী আবহাওয়া এমন কর্মসূচিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
\r\nজুলাই মাসে বিএনপি ‘গণ–অভ্যুত্থানের’ বর্ষপূতি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দলটির পরিকল্পনায় রয়েছে সরকারের ‘পতন ও পলায়নের বর্ষপূতি’ উপলক্ষে ঢাকায় একটি বৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের। গুঞ্জন রয়েছে, ওই সমাবেশে তারেক রহমান উপস্থিত থাকতে পারেন। যদিও দলীয়ভাবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
\r\nবিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক চিন্তাশীল বিশ্লেষক বলেন, তারেক রহমানের ফেরার পেছনে দুটি সম্ভাব্য কৌশল রয়েছে। এক, নির্বাচনে জয়ী হয়ে কিংবা সরকার গঠনের আগে-পরে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। দুই, নির্বাচনের আগে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে রাজনৈতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
\r\nএদিকে, ১৩ জুন লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা নতুন করে আলোচনা শুরু করেছেন তাঁর ফেরার সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে।
\r\nসূত্র বলছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের শেষ কিংবা জানুয়ারির শুরুতে ঘোষণা হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে তফসিল ঘোষণার আগে কিংবা পরে তারেক রহমান দেশে ফিরলে তা বিএনপির জন্য কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে।
\r\nজানা গেছে, তারেক রহমান দেশে ফিরলে গুলশান-২-এর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে বসবাস করবেন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এই বাড়ি খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে এটি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। সংস্থাটি এ বছর বাড়িটি ছেড়ে দিলে সেখানে বর্তমানে সংস্কারকাজ চলছে।
\r\n২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার ও পরে জামিনে মুক্তির পর তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার উদ্দেশে লন্ডনে যান এবং সেখানেই রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার জন্য এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
\r\n২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবরণ করার পর থেকে তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধিকাংশ মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
\r\nবিএনপির নেতা-কর্মীদের মুখে আবার শোনা যাচ্ছে পুরোনো স্লোগান—“তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে।” দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা সম্প্রতি বিভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন, ‘তারেক সাহেব শিগগিরই ফিরবেন।’ একই কথা বলেছেন যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিও।
\r\nতারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত না হলেও রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও আলোচনার গতিপ্রবাহ বলছে, তাঁর প্রত্যাবর্তন আর খুব দূরের ঘটনা নয়।





