ইরান এক যুগের বেশি সময়ের চেষ্টার পর সফল হয়েছে দেশীয় কার্গো বিমান ‘সিমোর্গ’ তৈরি করতে। মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটি পরীক্ষামূলকভাবে সিমোর্গের প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে এবং আশা করছে, শিগগিরই বিমানগুলো পণ্য পরিবহণে ব্যবহার করা যাবে।


দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (সিএএ)-এর প্রধান হোসেইন পুরফারজানেহ জানিয়েছেন, সিমোর্গ তৈরির দেশীয়করণ প্রক্রিয়া প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছিল। এতে ইরান বিশ্বের ২০টিরও কম দেশের মধ্যে একটি হিসেবে নিজস্ব নকশার বিমান তৈরির ক্ষমতা অর্জন করেছে।


সিমোর্গকে দ্রুত, হালকা এবং চটপটে বিমান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে উচ্চ পণ্যবহন ক্ষমতা রয়েছে এবং ইরানের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নকশা করা হয়েছে। এজন্য এটি জরুরি চিকিৎসা পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবার জন্যও উপযোগী। কর্তৃপক্ষের মতে, বিমানটি ইরানের স্থল ও নৌবাহিনীর পরিবহন সক্ষমতা বাড়াবে এবং দেশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা বা সরঞ্জাম পরিবহনে সহায়তা করবে। এছাড়া যাত্রী পরিবহণেও বিমানটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।


মঙ্গলবার মধ্য ইরানের শাহিন শহরের একটি বিমানঘাঁটি থেকে সিমোর্গের পরীক্ষামূলক উড়ান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।


সিএএ জানিয়েছে, বিমানটিকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ১০০ ঘণ্টা পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করতে হবে, যাতে এটি চূড়ান্তভাবে ইরানের বিমানবহরে যুক্ত হতে পারে। সিমোর্গ প্রথম দ্রুত ট্যাক্সি টেস্ট সম্পন্ন করেছিল মে ২০২২ সালে।
বিমানের নামকরণ করা হয়েছে ফারসি পৌরাণিক পাখি সিমোর্গ-এর নামে। এতে দুটি ২,৫০০ হর্সপাওয়ার ইঞ্জিন রয়েছে। বিমানটি ৬ মেট্রিক টন পণ্য ৩,৯০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত বহন করতে সক্ষম এবং এর সর্বোচ্চ টেকঅফ ওজন ২১.৫ মেট্রিক টন।